মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

দর্শনীয় স্থান

কালের গহবরে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন মানুষের সংস্কৃতিরনিদর্শন হলো পুরাকীর্তি। বিভিন্ন জনপদে বিস্মৃত মানুষ স্বাভাবিক নিয়মেকিছু স্মৃতিচিহ্ন রেখে যায়। এই মানুষগুলোর স্মৃতিচিহ্ন অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্মৃতিচিহ্নগুলো বিশেষ সময়ে বিশেষ ভূখন্ডে বসবাসকারীমানুষের চিন্তা চেতনাকে উন্মোচিত করে। তাদের প্রযুক্তি, কর্মপদ্ধতি, বাসস্থানের ধরন, ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রীর উপকরণ ইত্যাদিকে জানার সুযোগ করেদেয়। বোঝা যায় তাদের জীবনের গতি প্রকৃতি। যুগে যুগে নানা পর্যায়ে এবংবিভিন্ন ধরনের শাসন আমলে মানুষ যে পরিবেশে বাস করত কালের প্রবাহে তারবিবর্তন ঘটে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বহু স্থানের ব্যাপক পরিবর্তন হয়।অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্থান পতনের কারণেও গড়ে উঠে নতুন জনপদ কিংবা বিলুপ্ত হয়লোকালয়। আর এসবের পরিচয় বহন করে প্রত্ননিদর্শনসমূহ। বর্তমানের মানুষকেপ্রত্ননিদর্শনগুলো নিয়ে যায় ইতিহাসের কাছে। এজন্য প্রত্ননিদর্শন হলো'ইতিহাস ঐতিহ্যের শেকড়'।

বরেন্দ্রঅঞ্চলের উত্তরে অবস্থিত ঠাকুরগাঁও জেলা। পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র উপকূল কিংবামরুপ্রান্তর কোনোটাই এখানে নেই। এই জেলার বুক জুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ সমতলভূমি। সমতল ভূমির উপর দিয়ে এককালে প্রবাহিত ছিল বেশকিছু নদী, যার বেশির ভাগআজ বিলুপ্ত অথবা ক্ষীণকায়।ছিলবিল, জলাশয়, সবুজ মোহনীয় বন-জঙ্গল। এর মাঝেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়েউঠেছে মানুষের বসতি। ঠাকুরগাঁও জেলার সমতল ভূমি, নদী আর প্রকৃতি জনপদসৃষ্টি এবং সমৃদ্ধির সমান উপযোগী। তাই এই জেলায় পাওয়া যায় যুগে যুগে গড়েউঠা মানুষের বসতির বিচিত্র ইতিহাস, আর প্রাচীন কীর্তিসমূহ।প্রত্ননিদর্শনগুলো ঠাকুরগাঁও জেলার গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।

বাংলাদেশেরমাটি নমনীয়, পাথরের প্রাচুর্যতা এখানে কখনই ছিল না। নির্মাণ কাজ সম্পন্নহতো পোড়া মাটির তৈরি ইট দিয়ে। ঠাকুরগাঁও জেলার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীও এরব্যতিক্রম নয়। পোড়ামাটিরইটের তৈরি স্থাপত্য পাথরের মত কালজয়ী হতে পারেনি। তাই জেলার অতি প্রাচীনকীর্তিগুলো আজ ধুলায় মিশে গেছে। শুধু ইটের টুকরো, দূরদেশ থেকে নিয়ে আসাকিছু পাথর, বসতির ঢিবি, পোড়ামাটির কোনো ফলক সুদূর অতীতের ইঙ্গিত দিয়ে যায়।ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপত্য রাজভিটা, মহালবাড়ি মসজিদ, বাংলাগড়, গড় ভাতুরিয়া, গড়খাঁড়ি, গড়গ্রাম দুর্গ, গোরক্ষনাথ মন্দির, মালদুয়ার দুর্গ, কোরমখাঁন গড়, নেকমরদের ইতিহাস ঠাকুরগাঁও জনপদের অতিক্রান্ত কালের উজ্জ্বল স্মরণিকা।


Share with :

Facebook Twitter